মেটার বিরুদ্ধে হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতের মারাত্মক অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশের ভিডিও ব্লক হতেই কেন তোলপাড় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক?

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মেটা (Meta)-র বিরুদ্ধে বড়সড় ‘হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ এনে শোরগোল ফেলে দিল বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC)। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। উক্ত ভিডিওটিতে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীশ আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের সমস্ত হিন্দুদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। মেটার এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্দ্র সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন আয়োজকরা।
সংবাদের ৩টি প্রধান বিষয়:
ভিডিও ব্লক ও বিতর্ক: ২৬ ও ২৭ অক্টোবর দু-দু’বার আপলোড করা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ভিডিওটি ভারত থেকে দেখা বন্ধ করে দেয় মেটা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও পুলিশকে চিঠি: মেটার বিরুদ্ধে অস্পষ্ট আইনি দোহাই দেওয়ার অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY), মুম্বাই পুলিশ এবং দিল্লি পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছে আয়োজক কমিটি।
বিশাল সমাবেশের প্রস্তুতি: ২০২৬ সালের ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুম্বাইতে বসতে চলেছে ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’-এর মেগা আসর, যেখানে যোগ দেবেন ডঃ মোহন ভাগবত থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
কেন সরাল মেটা? ক্ষুব্ধ আয়োজকরা
আয়োজকদের অভিযোগ, ২৬ অক্টোবর পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিওটি ব্লক করে দেওয়া হয়। তথ্য প্রযুক্তি বিধিমালার অস্পষ্ট উল্লেখ দেখে ২৬ অক্টোবর রাতে পুনরায় ভিডিওটি আপলোড করা হলে, ২৭ অক্টোবর আবারও তা মুছে ফেলে মেটা।
কোন নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম বা নীতিমালা ভেঙেছে এই ভিডিও— সে সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেটা দেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। মেটার কন্টেন্ট মডারেশন বা তথ্য নিয়ন্ত্রণ নীতি নিরপেক্ষ নয় এবং এটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। অবিলম্বে স্বয়ং মেটা কর্তৃপক্ষ এবং ভারত সরকারকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্লক করা ভিডিওটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
কী এই বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস ২০২৬?
২০২৬ সালের ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে আয়োজিত হতে চলেছে চতুর্থ ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’ (WHC)। এবারের অনুষ্ঠানের মূল থিম বা বার্তা হলো— “সমনম ব্রতম সহ চিত্তম” (যৌথ অঙ্গীকার: সম্মিলিত সংকল্প)।
অংশগ্রহণকারীদের তালিকা: এই বিশাল সম্মেলনে আরএসএস প্রধান (সরসঙ্ঘচালক) ডঃ মোহন ভাগবত, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব-সহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
সীমিত প্রবেশাধিকার: অর্থ, শিক্ষা, মিডিয়া, রাজনীতি, নারী ও যুবসহ মোট ৭টি বিষয়ে আলোচনার জন্য ৪,০০০ জন নিবন্ধিত প্রতিনিধি এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ইতিহাস: বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিজ্ঞানানন্দের উদ্যোগে গঠিত ‘বিশ্ব হিন্দু ফাউন্ডেশন’ এটি পরিচালনা করে। এর আগে ২০২৩ সালে ব্যাংককে (৬২ দেশের ২,৩০০ প্রতিনিধি), ২০১৮ সালে শিকাগোতে (৬০ দেশের ২,৪৫০ প্রতিনিধি) এবং ২০১৪ সালে দিল্লিতে (৫৩ দেশের ১,৮০০ প্রতিনিধি) বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস সফলভাবে আয়োজিত হয়েছিল।