CAA মামলায় নতুন মোড়! সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন ‘স্পেশাল রেসিডেন্ট’ (SIR) স্ট্যাটাসের দাবি, সলিসিটর জেনারেলের আপত্তি

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকা মামলায় এক নতুন মানবিক দিক উঠে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে আগত এবং CAA-র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী হিন্দু শরণার্থীদের অন্তর্বর্তীকালীন ভাবে ‘স্পেশাল ইনহ্যাবিট্যান্ট রেসিডেন্ট’ (SIR) স্ট্যাটাস দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

নাগরিকত্বের অপেক্ষায় ‘বিদেশি’ তকমা:

আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী করুণা নন্দী সুপ্রিম কোর্টকে জানান, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যে হাজার হাজার হিন্দু পরিবার পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা CAA-র আওতায় আবেদন করলেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।

বঞ্চনা: এই বিলম্বের কারণে তাঁরা এখনও ‘বিদেশি’ তকমা নিয়ে বসে আছেন। ফলে তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারছেন না, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমনকি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা বা সরকারি চাকরির আবেদন করতে গেলেও বাধার মুখে পড়ছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: করুণা নন্দী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, তাঁর ক্লায়েন্টদের মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগত পরিবারও রয়েছে, যাঁদের সন্তানেরা এখন তৃতীয় প্রজন্মে পা দিয়েছে, কিন্তু এখনও নাগরিকত্বহীন।

করুণা নন্দীর মানবিক আবেদন:

করুণা নন্দী বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান, “যাঁরা CAA-র আওতায় আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদন অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন ভাবে SIR তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৩ সালে SIR নামে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা চালু করতে চাইলেও কেন্দ্রের আপত্তির কারণে সেই প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছে।

কেন্দ্রের অবস্থান ও আদালতের প্রশ্ন:

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, CAA-র নিয়ম ২০২৪ সালের মার্চ মাসেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে এবং অনলাইন পোর্টালে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়েছে।

তবে তিনি SIR স্ট্যাটাস দেওয়ার বিরোধিতা করে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন SIR দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারের এখতিয়ারে নয়, এটা কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।”

এর জবাবে বেঞ্চ প্রশ্ন করে, “যাঁরা ২০১৪-র আগে এসেছেন এবং আবেদন করেছেন, তাঁদের অন্তত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কী বাধা আছে?” করুণা নন্দী তখন বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “তা হলে অন্তত ‘প্রভিশনাল সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট’ দেওয়া হোক, যেমনটা অসমে NRC-এর ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছিল।”