পরীক্ষার চাপ কাটাতে এবং পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে সোমবার ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণের দ্বিতীয় পর্বে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেবমোগরা, কোয়েম্বাটুর, রায়পুর থেকে গুয়াহাটি— দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় মাতলেন তিনি। তবে এদিন মোদীর গলায় শুধু উপদেশের সুর ছিল না, বরং তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমি এখানে শেখাতে আসিনি, ছাত্রছাত্রীদের থেকে শিখতে এসেছি।”
প্রযুক্তি হোক হাতিয়ার, মালিক নয়: আজকের প্রজন্মের বড় অংশই স্মার্টফোন আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ওপর নির্ভরশীল। এক ছাত্রের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “প্রযুক্তিকে সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করুন, তাকে নিজের প্রভু হতে দেবেন না।” কিছু শিশু স্মার্টফোন না দেখলে খাবার খায় না— এই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দাস হওয়া বিপজ্জনক। AI-কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং একে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিকশিত ভারত ও ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের মনেও যখন উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখি, তখন খুব আনন্দ হয়।” তবে এই বড় লক্ষ্য পূরণের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনের ওপর জোর দেন তিনি। ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা, খাবার অপচয় না করা এবং সময়ের কাজ সময়ে করার মতো শৃঙ্খলা বজায় রাখা যে দেশ গড়ার প্রথম ধাপ, তা মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুপ্রেরণা বনাম শৃঙ্খলা: সাফল্য কি শুধু মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণাতেই আসে? মোদীর উত্তর— ‘না’। তিনি সাফ জানান, অনুপ্রেরণার সঙ্গে শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন যুক্ত হলে তবেই তা ‘সোনায় সোহাগা’ হয়। কৃষকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, কেবল উৎসাহ নিয়ে বসে থাকলে হবে না, ঠিক সময়ে জমিতে কাজ না করলে ফসল নষ্ট হবেই।
খেলা বনাম পড়াশোনা: ভারসাম্যই আসল: পড়াশোনার চাপে খেলাধুলা বিসর্জন দেওয়ার ঘোর বিরোধী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি খেলাধুলায় ভালো বলে পড়াশোনা করব না— এই ভুল কখনও করবেন না। আবার শুধু পড়াশোনাই সব সামলে নেবে, এটাও ঠিক নয়।” প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠের খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি এক মজার মন্তব্য করেন— “জীবনকে ‘খেলা’ হওয়া থেকে বাঁচাতে চাইলে, জীবনে ‘খেলা’ থাকা জরুরি।”