বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জোয়ার বইছে। একদিকে যখন আমেরিকা ও চীন অত্যাধুনিক AI মডেল তৈরির ইঁদুর দৌড়ে মত্ত, অন্যদিকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দেশগুলোতে AI-এর আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ার কারণ কেবল কম্পিউটিং পাওয়ারের অভাব নয়, বরং এক গভীর পরিকাঠামোগত ও সহযোগিতার অভাব।
সহযোগিতার অভাবেই কি ডুবছে সম্ভাবনা? সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক ইনোভেশন ডায়ালগে উঠে এসেছে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর AI ডেভেলপাররা অত্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। এক দেশে তৈরি হওয়া AI সমাধান অন্য দেশে একই সমস্যায় কাজে লাগতে পারত, কিন্তু যোগাযোগের অভাবে সেই সম্পদ ও সময়— দুই-ই নষ্ট হচ্ছে। মূলত অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার এবং কম্পিউটিং পরিকাঠামো প্রদানকারীদের মধ্যে যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন, তার অভাবেই থমকে রয়েছে বড় সাফল্য।
প্রতিযোগিতা নয়, লক্ষ্য হোক প্রয়োজন: বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা বা চীনের মতো ফ্রন্টিয়ার AI মডেলের প্রতিযোগিতায় নামা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর পক্ষে কঠিন। তবে এটিকেই বড় সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশাল বিনিয়োগের বদলে ভারতের ‘ভাষিণী’ প্ল্যাটফর্মের মতো স্থানীয় ভাষা এবং মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন ‘স্মল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’-এ জোর দেওয়া উচিত। সাব-সাহারান আফ্রিকার কৃষিকাজ বা লাতিন আমেরিকার স্বাস্থ্য পরিষেবা— একে অপরের পরীক্ষিত প্রযুক্তি ভাগ করে নিলে তবেই আসবে প্রকৃত সাফল্য। ক্রেডিটের বদলে ফলাফল-ভিত্তিক চুক্তিতে গুরুত্ব দিলেই এই দেশগুলো ভবিষ্যতের AI বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে।