“AI-ম্যাজিক ও এক টুকরো ডিমভাজা!”-স্বামীর ঘর ছাড়ার পর এ কী পরিণতি তরুণীর?

‘পারফেক্ট মার্ডার’ বলে পৃথিবীতে কিছু হয় না— অপরাধী কোনো না কোনো চিহ্ন রেখেই যায়। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ‘গোলা কা মন্দির’ থানা এলাকার এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও সেই সত্যকে প্রমাণ করল। জঙ্গলের ধার থেকে উদ্ধার হওয়া এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত, অর্ধনগ্ন দেহের রহস্য সমাধান করতে পুলিশের হাতিয়ার ছিল মাত্র এক টুকরো ‘ওমলেট’ বা ডিমভাজা! যা ওই নিহতের সোয়েটারের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল।

ঘটনার পটভূমি: গত ২৯ ডিসেম্বর গোয়ালিয়রের জঙ্গল ঘেরা এলাকা থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। ঘাতকরা পাথর দিয়ে মুখ এমনভাবে থেঁতলে দিয়েছিল যে তাকে চেনার কোনো উপায় ছিল না। কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি একটি ঠান্ডা মাথার খুন। এরপরই আধুনিক এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নেয় পুলিশ। মহিলার বিকৃত মুখের ছবি থেকে এআই-এর মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য মুখমণ্ডল তৈরি করা হয়।

তদন্তের মোড় ঘোরাল এক টুকরো ওমলেট: তদন্ত চলাকালীন সাব-ইনস্পেক্টর সোনম রঘুবংশীর নজরে আসে নিহতের সোয়েটারের পকেটে থাকা এক টুকরো অমলেট। তিনি অনুমান করেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কোথাও খাবারের দোকান আছে। তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি ফুড স্টলের সন্ধান মেলে। দোকানদারকে এআই দিয়ে তৈরি সেই ছবি দেখাতেই তিনি চিনে ফেলেন। দোকানদার জানান, ওই মহিলা এবং তাঁর সঙ্গীরা সেখান থেকেই অমলেট খেয়েছিলেন এবং পেমেন্ট করেছিলেন অনলাইনে।

ইউপিআই এবং সিসিটিভি-র জালে খুনি: দোকানের ইউপিআই ট্রানজ্যাকশন ডিটেইলস থেকে একটি ফোন নম্বর পায় পুলিশ। সেই সঙ্গে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। লোকেশন ট্র্যাক করে গত ৫ ডিসেম্বর গোয়ালিয়র রেলওয়ে স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সি শচীন সেনকে।

খুনের হাড়হিম করা কারণ: জেরায় শচীন স্বীকার করে যে, সে ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও খুন করেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, টিকমগড়ের বাসিন্দা ওই তরুণী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে শচীনের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শচীনের সন্দেহ ছিল, ওই তরুণীর আরও অনেক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেই চরম সন্দেহ থেকেই তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে শচীন। গোয়ালিয়রের এসপি ধর্মবীর সিং এই সাফল্যে এসআই সোনম রঘুবংশী ও তাঁর টিমের প্রশংসা করেছেন। এক টুকরো ডিমভাজা যে ফাঁসির দড়ি হয়ে উঠতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেনি খুনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy