ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, গ্রোক ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি করা হচ্ছে, যার অধিকাংশেরই শিকার হচ্ছেন সাধারণ নারীরা। ব্যবহারকারীরা গ্রোককে নির্দেশ দিয়ে বাস্তব মানুষের ছবি থেকে ‘ডিজিটালি পোশাক খুলে দেওয়া’ কিংবা আপত্তিকর ভঙ্গিতে উপস্থাপন করার মতো অনৈতিক কাজ করছে। এমনকি গত সপ্তাহে নাবালকদের বিকৃত ছবি তৈরির মতো ভয়ংকর অভিযোগও সামনে এসেছে, যা শিশু পর্নোগ্রাফির শামিল।
গুগলের জেমিনি বা চ্যাটজিপিটির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেলগুলোতে কঠোর ‘গার্ডরেইল’ বা সুরক্ষাকবচ থাকলেও, গ্রোকের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। ইলন মাস্ক বরাবরই ‘ওক’ এআই এবং সেন্সরশিপের বিরোধিতা করে এসেছেন। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মাস্ক অভ্যন্তরীণভাবেও গ্রোকের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে গ্রোকের তৈরি যৌনতামূলক ছবির বন্যা বইছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে এই প্রবণতা ভয়াবহ আকার নেয় যখন ব্যবহারকারীরা আবিষ্কার করেন যে, এক্স-এর যেকোনো পোস্টে গ্রোককে ট্যাগ করে ছবি এডিট করার অনুরোধ জানানো যায়। খোদ ইলন মাস্ক নিজের এবং বিল গেটসের বিকিনি পরা এআই ছবি পোস্ট করে এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছেন। কপিলিকসের গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের এআই প্রযুক্তি নারীদের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ধূলিসাৎ করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।