কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জয়যাত্রা এবং ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের জোড়া ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শিল্পে নেমে এসেছে চাকরি সংকটের কালো মেঘ। নতুন এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই বিশ্বজুড়ে চাকরি হারিয়েছেন ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭৩৯ জন প্রযুক্তি কর্মী।
ছাঁটাইয়ের ভয়ংকর পরিসংখ্যান: তথ্যভান্ডার ‘Layoffs.fyi’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শুধুমাত্র মে মাসেই চাকরি খুইয়েছেন ২৮ হাজার ৮৮৯ জন কর্মী, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। চলতি বছরের মার্চ মাস ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে এক মাসেই ৪৬ হাজারের বেশি কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
কোন কোন বড় সংস্থা তালিকায়? খরচ কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের অজুহাতে একের পর এক বড় সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করছে। তালিকায় রয়েছে:
উবার (Uber): পিপল অ্যান্ড প্লেসস বিভাগের ২৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই।
মেটা (Meta): মোট কর্মী সংখ্যার ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পথে।
পেপ্যাল (PayPal): আগামী দুই-তিন বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা।
সিসকো (Cisco): প্রায় ৪০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা।
ক্লিকআপ (ClickUp): নিজেদের কর্মী সংখ্যার ২২ শতাংশ কমিয়ে ফেলেছে সংস্থাটি।
ভবিষ্যতে কি আরও বিপদ? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে কম্পিউটারনির্ভর বহু ‘হোয়াইট-কলার’ চাকরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার (Automation) আওতায় চলে আসবে। ফলে কর্মসংস্থানের ধরনে বড়সড় পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের চিত্র কী? তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে এখনও ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং জেনারেটিভ এআই-এর প্রভাবে কাজের ধরন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে হাইব্রিড দক্ষতা এবং এআই সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত জ্ঞানই এখন কর্মীদের মূল ভরসা।





