৯৭৮ বর্গমিটার জমির জবরদখল মামলা, আইনি জালে জড়িয়ে পড়ছেন ইউসুফ পাঠান?

জমি জবরদখল বিতর্কে ক্রমেই চাপ বাড়ছে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের ওপর। ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি) শুক্রবার তাঁর দখলে থাকা ৯৭৮ বর্গমিটার জমির বাজারমূল্য নির্ধারণ করেছে। পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রতি বর্গমিটার জমির দাম ২.১০ লক্ষ টাকা ধার্য করেছে।
পুরসভার পদক্ষেপ ও আইনি প্রেক্ষাপট: ভিএমসি সূত্রে খবর, তান্ডালজা এলাকায় অবস্থিত এই জমিটি নিলামে তোলার প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরসভার সেক্রেটারি চিন্তন দেশাই জানিয়েছেন, কোনো জমি নিলামের আগে নির্দিষ্ট নিয়মে তার ভ্যালুয়েশন করা হয়। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে পুরসভার সাধারণ সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হবে।
কেন এই জমি নিয়ে বিতর্ক?
১. প্রাথমিক জবরদখল: ২০১২ সালে ভিএমসি-র একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইউসুফ পাঠান জমিটির দখল নেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেও তিনি জমিটি খালি করেননি।
২. অভিযোগ: তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পওয়ার অভিযোগ করেছিলেন যে, ইউসুফ পাঠান বেআইনিভাবে জমি দখল করে রেখেছেন।
৩. আদালতের অবস্থান: ২০২৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ভিএমসি তাঁকে জমি খালি করার নোটিশ পাঠায়। হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সেই নোটিশের সপক্ষে রায় দেয়। বর্তমানে বিষয়টি গুজরাট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন।
আদালতের কড়া মন্তব্য: হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সাম্প্রতিক শুনানিতে সাংসদ ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছে। আদালত মৌখিকভাবে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে জমিটি অবৈধভাবে দখলে রাখার দায়ে তাঁকে মোটা অঙ্কের খেসারত দিতে হতে পারে।
বর্তমানে ইউসুফ পাঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আবহ এবং এই জমি বিতর্ক—সব মিলিয়ে সাংসদের ওপর চাপ যে বহুগুণ বেড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।