৯২ মিলিয়ন ডলারের কামানের গোলা, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর দ্রুত অস্ত্র সরবরাহে সায় আমেরিকার!

সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মজুত করার জরুরি অনুরোধে অবশেষে অনুমোদন দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে এবং ভারত-পাক সংঘর্ষে ব্যয় হওয়া গোলা-বারুদ পূরণ করতে ভারত আমেরিকার থেকে প্রায় ৯২ মিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ৮১৫ কোটির বেশি) সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চলেছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পাচ্ছে— জাভেলিন (Javelin) ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং এম৯৮২এ১ এক্সক্যালিবার (Excalibur) নির্ভুল কামানের গোলা।
জাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি: খরচ ৪০৫ কোটি টাকা
ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র জাভেলিন ক্রয়ের জন্য ভারত অনুরোধ করেছে মোট ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জাভেলিন রাউন্ড, একটি জাভেলিন এফজিএম-১৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি জাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (LwCLU)।
এই চুক্তি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র সিমুলেশন রাউন্ড, ব্যাটারি কুল্যান্ট ইউনিট এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও ভারত পাবে। সমস্ত জাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ভারতের আনুমানিক খরচ হবে ৪৫.৭ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪০৫ কোটির বেশি)। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি তৈরি হয় ফ্লোরিডা এবং অ্যারিজ়োনার আরটিএক্স কর্পোরেশন/লকহিড মার্টিন জাভেলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারে।
এক্সক্যালিবার কামানের গোলা: চুক্তিমূল্য ৪১৭ কোটি টাকা
একইসঙ্গে, জরুরি ভিত্তিতে ভারত কিনছে এম৯৮২এ১ এক্সক্যালিবার কৌশলগত প্রজেক্টাইল (কামানের গোলা)। এই চুক্তির আওতায় ভারত মোট ২১৬টি এক্সক্যালিবার কামানের গোলা পাবে। এই চুক্তির মূল্য ৪৭.১ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪১৭ কোটির বেশি)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য এই চুক্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে সমস্ত সামরিক সরঞ্জাম ভারতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?
আমেরিকার ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (DSCA) জানিয়েছে, “ভারতের সামরিক বাহিনীর পক্ষে এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করতে বা এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধা হবে না।” এই চুক্তির ফলে ভারতের সামরিক বাহিনী বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যে কোনও বিপদ মোকাবিলায় আরও বেশি সফল হবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কেবল ভারতের সামরিক শক্তিই বৃদ্ধি করবে না, একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ককেও আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।