৮০ বছরের ঐতিহ্য, আজও ‘সাবেকি’ উত্তাপ মহানায়কের বাড়িতে! অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে আজও ভিড় করেন উত্তমপ্রেমীরা

তিনি শুধু রূপালি পর্দার মহানায়ক নন, তিনি বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন নাম—উত্তম কুমার। বাংলার সংস্কৃতি ও আচার অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। আর তাই তাঁর পারিবারিক দুর্গাপূজো আজও বাঙালির কাছে ঠিক ততটাই ঐতিহ্যবাহী ও আবেগময়। দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের মোহনবাগান লেনে অবস্থিত মহানায়কের পৈতৃক বাড়িতে প্রতিবছর এই পারিবারিক দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

দাদু-বাবার হাত ধরে সূচনা
এই পুজোর সূচনা হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর আগে, উত্তম কুমারের দাদু ও পিতা যৌথভাবে এই উৎসব শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে এই পারিবারিক পুজোয় উত্তম কুমার নিজেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

অষ্টমীর বিশেষত্ব: শ্যুটিং এবং অন্যান্য ব্যস্ততার মাঝেও মহানায়ক চেষ্টা করতেন পুজোর সময় বাড়িতে থাকতে। বিশেষ করে অষ্টমীর অঞ্জলি ও সন্ধিপুজোয় তিনি নিজে উপস্থিত থাকতেন এবং পুজোর বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন।

স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার রীতির নাম এই পুজো
বর্তমানে মহানায়কের পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়, নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিষ্ঠা ভরে এই পুজোর দায়িত্ব সামলান। পুজোটি ঘরোয়া হলেও, উত্তমপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী এই বাড়ির পুজো দেখতে আসেন।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, “এই পুজো আমাদের কাছে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, মহানায়কের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক রীতিও বটে।”

পুজোর ভোগ রান্না, ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সবকিছুতেই সেই পুরোনো সাবেকিয়ানা ধরে রাখার প্রথা আজও বর্তমান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টে গেলেও, উত্তম কুমারের বাড়ির এই পুজো সাধারণের কাছে আজও সমান আবেগের জায়গা হয়েই রয়ে গিয়েছে।