রোজকার ব্যবহৃত মাটির ভাঁড় তৈরি করে এখন মোটা টাকা উপার্জন করা সম্ভব, আর সেই লাভজনক পথের দিশা দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর যুবক সুজিত ঘোষ। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নস্টালজিয়ার প্রতীক এই মাটির ভাঁড়ের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
আগে হাতে তৈরি হলেও, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন মেশিনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে আধুনিক মাটির ভাঁড়। সুজিত বাবু জানিয়েছেন, এই মেশিনে শুধু চায়ের ভাঁড় নয়, থালা, দইয়ের ভাঁড়, গ্লাস ইত্যাদিও তৈরি করা যায়। তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাটির ভাঁড়েরই। আগে পর্যাপ্ত যোগান না থাকলেও, এখন মেশিনে তৈরির ফলে যেকোনও সময় সহজে ভাঁড় পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সুজিত ঘোষের মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমায় মাটির জিনিসের চাহিদা এখন বাড়ছে। তিনি বলেন, “আমার তৈরি মাটির ভাঁড় এখন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। এটা সত্যিই খুবই ভাল একটা ব্যবসা।”
এই ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজন কেবল মাটির ভাঁড় তৈরির মেশিন ও সামান্য পরিমাণ মাটি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং আয়-এর অনুপাত খুবই লাভজনক।
খরচ: এক ট্রাক্টর মাটি কিনতে খরচ হয় মাত্র ৮০০ টাকা।
উৎপাদন ও আয়: ওই ৮০০ টাকার মাটি থেকে তৈরি করা যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ভাঁড়। প্রতিটি ভাঁড়ের বাজারদর ৭০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ, ৮০০ টাকার মাটি থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
সুজিত বাবুর দাবি, সাধারণ মানুষ প্লাস্টিক বা কাগজের কাপের বদলে মাটির ভাঁড়েই চা পান করতে পছন্দ করায়, বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যবসা যেমন লাভজনক, তেমনি পরিবেশবান্ধবও।
সুজিত ঘোষ জানিয়েছেন, কেউ যদি এই মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে তাঁকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া শেখানো হয়। মেশিন কেনা ও ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা ৯৭৭৫৭৩৩৬৪৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি মাটির ভাঁড় এখন গ্রামবাংলার যুবকদের স্বনির্ভরতার এক নতুন পথ দেখাচ্ছে।