“৭ দিন রেড রোড বন্ধ!”-নাগরিকদের ভোগান্তি নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে দীর্ঘ সাত দিন রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে জনভোগান্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের মুখে পড়ল রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবেই হোক সব নাগরিকের যাতায়াতের জন্য বিকল্প রাস্তার সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে।

আদালতে পুলিশের যুক্তি: মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য জানতে চেয়েছিলেন, এই অনুষ্ঠান ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মতো বড় ময়দানে করা সম্ভব ছিল কি না? জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, এটি একটি সরকারি অনুষ্ঠান এবং সেনাবাহিনীর অনুমোদন সাপেক্ষেই রেড রোড বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এসপিজি (SPG) নিরাপত্তার বিষয়টিকে উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, নিরাপত্তার খাতিরেই রেড রোডের ওই অংশটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা জরুরি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: আদালত পুলিশের এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “গোটা রাস্তা বন্ধ না করে কেন অর্ধেক খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হলো না?” আদালতের মতে, সাত দিন ধরে এভাবে একটি প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন থেকে যায়।

আদালতের প্রধান নির্দেশাবলি:

  • বিকল্প পথ: পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সবরকম বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তাঁরা কোনো অসুবিধায় না পড়েন।

  • সময়সীমা: অনুষ্ঠান শেষ হওয়ামাত্রই যেন রেড রোড পুনরায় সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

  • হলফনামা: মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য তিন সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তি: এই মামলায় পরবর্তী পর্যায়ে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, ১৪ জুন রাত ১০টা থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশিকার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’। আদালতের এই নির্দেশ আপাতত রাজ্য প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ যোগ দিবসের নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন মূল দায়িত্ব।