জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) পথে হেঁটে বড়সড় বদল আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা CBSE। এবার থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা (Third Language) শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো— পাঠ্যবই না থাকলেও পঠনপাঠন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
৭ দিনের ডেডলাইন: বোর্ডের পক্ষ থেকে স্কুলগুলিকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হাতে সময় অত্যন্ত কম। আগামী ৭ দিনের মধ্যেই প্রতিটি স্কুলে তৃতীয় ভাষার ক্লাস চালু করতে হবে। হাতে যদি নির্দিষ্ট পাঠ্যবই নাও থাকে, তবে হাতের কাছে থাকা সহায়ক উপকরণ বা রিসোর্স ব্যবহার করেই পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে হবে।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে? সিবিএসই-র নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে:
বাধ্যতামূলক শিক্ষা: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে। সাধারণত প্রথম ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি বা আঞ্চলিক ভাষা থাকে। এবার তৃতীয় একটি ভাষা বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বই ছাড়া ক্লাস: পাঠ্যপুস্তক হাতে পৌঁছাতে দেরি হলে শিক্ষকরা বিকল্প উৎস (যেমন ইন্টারনেট, সংবাদপত্র বা অন্য শিক্ষা উপকরণ) ব্যবহার করে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া শুরু করবেন।
স্কুলগুলির দায়িত্ব: স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা বিদ্যমান শিক্ষকদের মাধ্যমেই এই ভাষা শিক্ষার পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
কেন এই তাড়াহুড়ো? বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এই নিয়ম কার্যকর করতে চাইছে বোর্ড। পড়ুয়ারা যাতে বহুভাষিক দক্ষতায় পিছিয়ে না পড়ে এবং জাতীয় স্তরে ভাষাগত বৈচিত্র্য বজায় থাকে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে বোর্ডের এই ‘বই ছাড়া পঠনপাঠন’ চালুর নির্দেশ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, বই ছাড়া ভাষা শিক্ষার শুরুটা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।





