২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision) নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিশেষ করে ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) পূরণ এবং জমা দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক থামাতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আজ কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। তিনি সাফ জানিয়েছেন, নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে বা এক বিধানসভা থেকে অন্য বিধানসভায় নাম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফর্ম ৬-এর গুরুত্ব অপরিসীম, তবে তা নিয়ে কোনো ভুল প্রচার বা ভয়ের কারণ নেই।
গত কয়েক মাসে রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর জেরে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে এবং প্রায় ৬০ লক্ষ নাম পর্যালোচনার (Adjudication) অধীনে রয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে যে, ফর্ম ৬ পূরণের নামে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এর জবাবে সিইও স্পষ্ট করেছেন যে, যারা বর্তমানে বৈধ ভোটার হিসেবে তালিকায় আছেন, তাদের নতুন করে ফর্ম ৬ ভরার প্রয়োজন নেই যদি না তারা ঠিকানা বদল বা তথ্য সংশোধন করতে চান। তবে যারা নতুন আঠারো বছর পূর্ণ করেছেন বা যাদের নাম কোনো কারণে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাদের অবশ্যই ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এবার থেকে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হবে যাতে কোনো তরুণ ভোটার বাদ না পড়ে। এছাড়াও অনলাইন পোর্টাল এবং ‘ভোটার হেল্পলাইন’ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই এই ফর্ম পূরণ করা যাবে। সিইও-র বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনাই কমিশনের মূল লক্ষ্য, কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা নয়। ৩১ জুলাইয়ের ডেডলাইন মাথায় রেখে ভোটারদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক উস্কানিতে পা না দিয়ে সরাসরি সরকারি পোর্টালের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।