৫ শ্রেণি, ৫০ পড়ুয়া আর মাত্র ১ শিক্ষিকা! অবসরের আগেই কি তালা পড়বে এই স্কুলে?

পূর্ব কাটোয়ার করজগ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধমুড়ো মাঠপাড়ার একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র চরম সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে একসময়ে চারজন শিক্ষক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হতে থাকে পদের সংখ্যা। ২০২৪ সালে এক শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ স্কুলটি একা সামলাচ্ছেন একমাত্র শিক্ষিকা হুসনে আফিফা। প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি—পাঁচটি শ্রেণির পড়াশোনা, স্কুল খোলা, ক্লাসরুমের দরজা খোলা থেকে শুরু করে যাবতীয় দায়িত্ব এখন তাঁর একাই কাঁধে। আগামী মাসেই এই একমাত্র শিক্ষিকাও অবসর নিতে চলেছেন। আর তাঁর অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ জন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, একটিমাত্র ঘরেই একসঙ্গে বসিয়ে পাঁচ শ্রেণির পড়ুয়াদের পাঠদান করাতে হচ্ছে ওই শিক্ষিকাকে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায়শই তাঁকে পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসেও ছুটতে হয়। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাহত হয় পঠনপাঠন। স্কুলের পরিকাঠামোও চূড়ান্ত বেহাল। মিড-ডে মিলের রান্নাঘরটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে এবং ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। স্কুলের একমাত্র টিউবওয়েলটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকায় পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে অন্যের বাড়ি থেকে জল বয়ে এনে মিড-ডে মিল রান্না করতে হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। গ্রামের অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সেখানকার যাতায়াতের রাস্তা অত্যন্ত দুর্গম। ফলে ছোট ছোট শিশুদের অত দূর পাঠানো নিয়ে আতঙ্কিত তাঁরা। অভিভাবকদের দাবি, একমাত্র শিক্ষিকা অবসর নেওয়ার আগেই অবিলম্বে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং স্কুলের বিপজ্জনক পরিকাঠামো সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় ৫০ জন শিশুর পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষিকা হুসনে আফিফা আক্ষেপের সুরে জানান, “একটু তো অসুবিধা হয়। উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের বলি নিচু ক্লাসকে পড়াতে, আর নিচু ক্লাসকে আমি পড়াই। আর কী করব!” অভিভাবকরাও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।