বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে কাতার এনার্জির সিইও তথা কাতারের শক্তিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ফেরাতে অন্তত ৫ বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, আগামী পাঁচ বছর কাতার থেকে নিরবচ্ছিন্ন তেল বা গ্যাস পাওয়ার আশা ক্ষীণ।
কাতারের এই ঘোষণা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। কাতার কেবল তেল নয়, ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহেরও প্রধান উৎস। দীর্ঘমেয়াদী এই ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলবে ভারতের পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের ফলে জাহাজ চলাচল ও পরিকাঠামোর যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করা সময়সাপেক্ষ। সাদ আল-কাবি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পরিকাঠামোগত পুনর্গঠন ছাড়া আগের মতো সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব। এমতাবস্থায় ভারত কি রাশিয়ার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হবে, নাকি বিকল্প শক্তির পথে হাঁটবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দিল্লির সাউথ ব্লকে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে বলে খবর।