৫ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি, মালদহ মেডিক্যাল কলেজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফলভাবে হাঁটু প্রতিস্থাপন!

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হাঁটু প্রতিস্থাপনের জন্য লক্ষাধিক টাকা জোগাড় করতে না পারা এক পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনে নতুন করে হাঁটাচলার সুযোগ করে দিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, সরকারি উদ্যোগেই সফলভাবে সম্পন্ন হলো এই জটিল অস্ত্রোপচার। এর ফলে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক নতুন নজির গড়ল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ।
🩺 টাকার অভাবে আটকে ছিল চিকিৎসা
মালদহের হবিবপুর ব্লকের বাহাদুরপুর নন্দাড় এলাকার বাসিন্দা দেবেন বারুই। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। পাঁচ বছর আগে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তিনি হাঁটাচলা করতে পারছিলেন না। হাঁটার সময় ঘন ঘন পড়ে যেতেন। বেসরকারি হাসপাতাল বা নামীদামি চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও, লক্ষাধিক টাকা খরচের সামর্থ্য না থাকায় তাঁর চিকিৎসা বন্ধ ছিল।
সপ্তাহখানেক আগে তিনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন। সেখানেই তাঁকে দেখার পর চিকিৎসকরা দ্রুত হাঁটু প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
✨ ৩ ঘণ্টার জটিল অপারেশনে নজির
রোগীর অবস্থা বুঝে আর দেরি করেননি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। অস্থিরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শুভাশিষ রঞ্জন মিত্র, চিকিৎসক নীতিন কুমার সহ অন্যান্য অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল এই অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নেয়।
প্রায় তিন ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁর হাঁটাচলার পথে বাধা কেটে গেছে।
👏 পরিবারের কৃতজ্ঞতা, হাসপাতালের গর্ব
দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ায় দেবেন বারুইয়ের পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এটি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রথম হাঁটু প্রতিস্থাপন (Joint Replacement) অস্ত্রোপচার, যা সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে জটিল চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক স্থাপন করল।