৫ দিনের জেল হেফাজতে সিজেপি নেতারা, মোদী সরকারকে ব্রিটিশ রাজের সঙ্গে তুলনা!

যন্তর মন্তরে বলপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সিজেপি (CJP)-র তিন শীর্ষ নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়ে চরম আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধৃত নেতারা। পাশাপাশি কেন্দ্রের বর্তমান শাসনকালকে সরাসরি ব্রিটিশ রাজত্বের সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার সকালে মন্দির মার্গ এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডে—এই তিন সিজেপি নেতাকে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্বে দেওয়া বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যার ফলে তাঁদের এখন জেলেই দিন কাটাতে হবে।
আদালতের এই রায়ের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ধৃত সিজেপি নেতারা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। ধৃত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। সম্পূর্ণভাবে সংবিধান এবং দেশের আইন মেনেই দেশ চলা উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্রের এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই কোনোভাবেই থামবে না এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ব্রিটিশ আমলের বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দিল্লি আগমনকে কেন্দ্র করে। যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা ওড়ানোকে কি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে? এই জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন খোদ অভিজিৎ দীপকে। বুধবার সকালেই দিল্লি এসে পৌঁছন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার যদি সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই বদ্ধপরিকর হয়, তবে লুকোচুরি না করে তাদের সাহসের সঙ্গে তা স্বীকার করা উচিত। কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করুক।”
এদিকে, এই গ্রেফতারি এবং পুলিশি পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সিজেপি নেতাদের আটকের ঘটনায় ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোও ফুঁসে উঠেছে। খবর মিলছে যে, দিল্লির মাটিতে এই প্রতিবাদের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বুধবার বিকেলের দিকে ডিওয়াইএফআই-এসএফআই (DYFI-SFI) এবং এআইএসএফ-এআইওয়াইএফ (AISF-AIYF) এর মতো বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। সবমিলিয়ে, যন্তর মন্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।