৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহ! সই জাল করে দল দখলের ছক? কোণঠাসা তৃণমূলের অন্দর

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্ক শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকেও দু’ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। একদিকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্ত—সব মিলিয়ে অস্তিত্ব সংকটের মুখে শাসকদল।
কী এই সই জাল-কাণ্ড? বিতর্কের সূত্রপাত গত ৯ মে, যখন পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। তাতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব ছিল। অভিযোগ, গত ২৭ মে জমা পড়া রেজলিউশন কপিতে বিধায়কদের সইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ‘অসঙ্গতি’ ধরা পড়ে। তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার দাবি, ১৪ জন বিধায়কের সই জাল করে ভুয়ো রেজলিউশন তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগের পরেই তাঁদের বহিষ্কার করে তৃণমূল।
বিদ্রোহ ও নতুন সমীকরণ এই বহিষ্কারের পরেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়েছেন। জল্পনা শুরু হয়েছে, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করে কি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে?
সিআইডির নজরে শীর্ষ নেতৃত্ব ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার গ্রহণ করেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবারই তদন্তকারী দল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দেয় সিআইডি। তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করা হলেও, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। ১৫ দিনের সময়সীমা পেলেও, গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আজ হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
তদন্তের পরিধি বাড়ছে সই জাল-কাণ্ডের গভীরে পৌঁছাতে মরিয়া সিআইডি ইতিমধ্যে ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের অরূপ রায় এবং মহেশতলার শুভাশিস দাসের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে। এছাড়াও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যার পুরোটাই ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এই ‘সই জাল’ বিতর্ক তৃণমূলকে নৈতিকভাবেও কোণঠাসা করে ফেলেছে। এখন দেখার, হাইকোর্টের রায়ের পর এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়।