মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন যা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর জন্য বড়সড় অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘স্যাংশন রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’ (Sanctioning Russia Act of 2025) নামের এই বিলটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন সেই সমস্ত দেশগুলোর ওপর কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে, যারা রাশিয়ার থেকে খনিজ তেল বা ইউরেনিয়াম আমদানি জারি রাখবে। মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই বিলটিকে পুতিনের ‘যুদ্ধ তহবিল’ বন্ধ করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভারতের ওপর প্রভাব: ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেই আমেরিকা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিল, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছে যায়। এবার নতুন এই বিলের ফলে সেই শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছেন যে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে, তবুও ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
বিলে কী বলা হয়েছে? বিলের শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্য বা ইউরেনিয়াম কেনে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই দেশের সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে বাধ্য থাকবেন। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভারতকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইস্যুতে আমেরিকার পক্ষ নিতে বাধ্য করা এবং রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করা।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকলেও, বাণিজ্যিক স্বার্থে ট্রাম্প কোনো আপস করতে নারাজ। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে এই শুল্কের কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ওপর খুশি নন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে এই ট্যারিফের ভয় দেখিয়ে একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চায়।