৫০০ জনের জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০০০ রোগী! রোগীর চাপে হাঁসফাঁস শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে বিরাট বদল!

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন, অথচ বর্তমান পরিকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল মাত্র ৫০০ রোগীর কথা মাথায় রেখে। অতিরিক্ত রোগীর এই বিপুল চাপ সুষ্ঠুভাবে সামাল দিতে এবং চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে এবার হাসপাতালটিকে আধুনিক উপায়ে ঢেলে সাজানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে এটিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য করতে হাসপাতালকে সম্পূর্ণ পেপারলেস করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ই-প্রেসক্রিপশন ও ই-রিপোর্টিং পরিষেবা চালু করা হবে, যার ফলে কাগজের নথি বহনের ঝক্কি যেমন কমবে, তেমনই চিকিৎসকদের কাছে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি, এবিএইচএ (ABHA) ডিজিটাল হেলথ আইডি তৈরির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অতিরিক্ত হয়রানি ও দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা পোহাতে না হয়।
কিডনি রোগীদের জন্য আসছে বড় স্বস্তি। হাসপাতালের ডায়ালিসিস বিভাগের বেড সংখ্যা ৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার কাজ বর্তমানে প্রায় শেষের পথে। এর ফলে নিয়মিত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন এমন রোগীরা আরও সহজে ও নিয়মিত পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া নতুন ওয়ার্ড, সাব-স্টোর, স্মার্ট ওপিডি এবং আধুনিক মাদার-চাইল্ড হাব নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসা পরিসর আরও বহুগুণ প্রসারিত হবে।
শিশু রোগীদের চিকিৎসার পরিবেশ উন্নত করতে পেডিয়াট্রিক বিভাগকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে, যার ফলে তীব্র গরমে শিশু ও তাঁদের অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। এছাড়াও রোগীদের মানসম্মত খাবার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, উন্নত পার্কিং ব্যবস্থা এবং নাইট শেল্টারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। জরুরিকালীন পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ফায়ার অডিট করানোর পাশাপাশি নিজস্ব ইলেকট্রিক সাব-স্টেশন তৈরির উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, “হাসপাতালের প্রতিটি পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও রোগীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যেই এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডায়ালিসিস বেড বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পার্কিং, শিশু বিভাগ এবং রোগী ও পরিজনদের আনুষঙ্গিক সুবিধা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতের বর্ধিত রোগীর চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামলানোর মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের এই সর্বাঙ্গীন রূপান্তরে চিকিৎসা পরিষেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সময়, ভোগান্তি এবং মানসিক চাপ—তিনটিই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।