বম্বে হাইয়ের পর এবার বাংলার মাটিতেও ‘তরল সোনা’! বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হতেই খুলল ভাগ্য?

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান! বম্বে হাইয়ের পর দেশের জ্বালানি মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বাংলার অশোকনগর। শুক্রবার (২৮ আগস্ট, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ২৪ পরগনার বাইগাছি ওএনজিসি কেন্দ্র থেকে শুরু হলো বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন। এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে ঘিরে গোটা অশোকনগরজুড়ে এখন সাজো সাজো রব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

মাটি খুঁড়ে বের হচ্ছে ‘তরল সোনা’
ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটির প্রায় ২৩৯৬ মিটার গভীর থেকে আধুনিক পাম্পজ্যাক ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে যে কূপ থেকে প্রথম তেলের সন্ধান মিলেছিল, তার প্রায় ৯৫ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নতুন করে কূপ খনন করে এই সাফল্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তোলিত এই তেল বিশেষ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সরাসরি সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওএনজিসি সূত্রে খবর, এই তৈলক্ষেত্রে মোট ছ’টি কূপ খনন করা হয়েছে— যার মধ্যে চারটি খনিজ তেলের জন্য এবং দুটি প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য নির্ধারিত।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আশার আলো
শুক্রবার এই বাণিজ্যিক তেল উত্তোলনের শুভ সূচনা করেন ওএনজিসির ডিরেক্টর (এক্সপ্লোরেশন) ও. পি. সিনহা এবং অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইগাছির অপরিশোধিত তেলের গুণমান দেশের অন্যতম প্রধান তৈলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের তেলের সঙ্গেই তুলনীয়।

এই পুরো প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। শুধু তেল উত্তোলনই নয়, এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, কাঁচা রাস্তা পাকা করা এবং স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে ওএনজিসি। পাশাপাশি, এই মেগা প্রকল্পের জেরে এলাকার বেকার যুবকদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী দিনে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়লে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাতেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।