পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্ক আর চড়া সুরের আক্রমণ। এবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার বিস্ফোরক দাবি করলেন এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ সাফ জানালেন, আগামী ৪ মে-র পর থেকেই বাংলায় সমস্ত রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তি বন্ধ হয়ে যাবে।
ঠিক কী দাবি দিলীপ ঘোষের? এ দিন নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বর্তমান রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল জমানায় বাংলা এখন দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতি আর বেশিদিন নয়। ৪ মে ভোটের ফলাফল বেরোবে এবং সেদিন থেকেই বাংলায় হিংসার রাজনীতি চিরতরে বিদায় নেবে।”
মাওবাদী প্রসঙ্গের উল্লেখ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপবাবু বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেন, তা করে দেখান। তিনি কথা দিয়েছিলেন মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদী উপদ্রব শেষ করবেন, আজ সেখানে আর মাওবাদীদের চিহ্ন নেই। ঠিক তেমনই ৪ মে-র পর বাংলার মানুষ সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে নিশ্বাস নেবে।”
সংবাদের বিশেষ দিক:
টার্গেট ২০২৬: খড়গপুর সদর আসন থেকে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ। এ দিন তিনি দাবি করেন, গতবারের চেয়েও বেশি মার্জিনে জয়ী হয়ে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে।
সন্দেশখালি ও আরজি কর ইস্যু: বক্তব্যে সন্দেশখালি, আরজি কর এবং কসবার মতো সাম্প্রতিক উত্তপ্ত ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে, মানুষ এই ‘অত্যাচার’ থেকে মুক্তি পেতে ৪ মে-র অপেক্ষায় বসে আছে।
পরিবর্তনের ডাক: দিলীপের দাবি অনুযায়ী, ৪ মে গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে ‘পরিবর্তনের সরকার’ আসবে এবং পুলিশ-প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ শুরু করবে।
উপসংহার: তৃণমূল শিবির অবশ্য দিলীপ ঘোষের এই দাবিকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এমন অবাস্তব কথা বলছেন বিজেপি নেতা। তবে বাংলার ভোটের ফল প্রকাশের সেই ‘ডেডলাইন’ ৪ মে শেষ পর্যন্ত কী বার্তা নিয়ে আসে, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।





