শোকার্ত মারাঠি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি! প্রয়াত ‘এক হোতা বিদুষক’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর

মারাঠি বিনোদন জগৎ থেকে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ এক দশক ধরে শয্যাশায়ী থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মারাঠি সিনেমার স্বর্ণযুগের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা লিজেন্ডারি নৃত্যশিল্পী মধু কাম্বিকর। ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে মারাঠি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালে। মুম্বইয়ের বিখ্যাত যশোবন্ত নাট্য মন্দিরে তাঁর একটি লাইভ লাবণী নৃত্যানুষ্ঠান চলাকালীন আচমকাই গুরুতর স্ট্রোক হয় অভিনেত্রীর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দ্রুত মেকআপ রুমে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাঁর শরীরের একপাশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি বিছানাতেই শয্যাশায়ী ছিলেন। কিছুদিন আগে বিছানায় শুয়ে থাকা তাঁর একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে অনুরাগীদের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি হয়েছিল। বাড়িতেই পুত্রবধূ শীতল যাদবের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
অভিনয়ের পাশাপাশি মধু কাম্বিকর ছিলেন একজন অসাধারণ নৃত্যশিল্পী। মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং খাঁটি ঐতিহ্যবাহী লাবণী নৃত্য শৈলী তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। জব্বার প্যাটেল পরিচালিত বিখ্যাত মারাঠি ছবি ‘এক হোতা বিদুষক’-এ কিংবদন্তি অভিনেতা লক্ষ্মীকান্ত বের্দের মায়ের চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে রয়েছে। ওই চলচ্চিত্রে ঊষা নায়েক এবং মধু কাম্বিকরের পরিবেশিত খাঁটি লাবণী আজও মারাঠি সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়াও ‘ভরলা আভাল পাসভি পাহুনা গান বাই’, ‘শ্রাবণচ উন মালা ঝেপেনা’, ‘ইয়েউ কা ঘরত’ এবং ‘মালা নুং চালা’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ও শক্তিশালী চলচ্চিত্রে দাদাকোন্ডকে-র মতো তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি।
২০১৮ সালে তাঁর অসামান্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জি চিত্র গৌরব পুরস্কার’ এ ভূষিত করা হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর পুত্রবধূ শীতল যাদব তাঁর পক্ষ থেকে সেই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পুত্রবধূ জানিয়েছিলেন যে এমন একজন গুণী ও স্নেহময়ী শাশুড়ি পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবতী মনে করেন। দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে আজ তিনি চিরতরে পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। তাঁর এই প্রয়াণে মারাঠি বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।