পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিস্ফোরণ। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই ফাঁস হয়ে গেল বঙ্গ বিজেপির বহু প্রতীক্ষিত ‘সংকল্প পত্র’ (BJP Sankalp Patra)। সূত্রের খবর, এবার তৃণমূলের সবথেকে বড় হাতিয়ার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে টেক্কা দিতে বিজেপি মাসিক ৩০০০ টাকার বড় বাজি ধরতে চলেছে। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মীদের মন জিততে ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ (DA) মেটানোর মতো একগুচ্ছ হাইভোল্টেজ প্রতিশ্রুতি রয়েছে এই ইস্তাহারে।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির এবারের সংকল্প পত্রে তিনটে মূল স্তম্ভ রয়েছে—জনকল্যাণ, শিল্পায়ন এবং সুশাসন।
-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা: বর্তমান সরকারের ১০০০-১২০০ টাকার বদলে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে চলেছে।
-
যুব সাথী প্রকল্প: বেকার যুবকদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকার আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে এই ইস্তাহারে।
-
ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন: ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়া এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
-
সিঙ্গুরে শিল্পায়ন: এককালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের ভরকেন্দ্র সিঙ্গুরে ১০০০ একর জমিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে গেরুয়া শিবির।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্তাহারটি মূলত রাজ্যের মধ্যবিত্ত এবং গ্রামবাংলার মহিলাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া আইন এবং সন্দেশখালির মতো ঘটনা রুখতে মহিলা সুরক্ষায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে সেখানে। আগামী ৫ এপ্রিল অমিত শাহ নিজে এই সংকল্প পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। তবে তার আগেই এই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। তৃণমূল অবশ্য একে ‘বিজেপির জুমলা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।