ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য করতে রাশিয়ার সঙ্গে এক মেগা চুক্তিতে সিলমোহর দিল নয়াদিল্লি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা (৪৭ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার বিখ্যাত ‘টুঙ্গুস্কা’ (Tunguska) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অত্যাধুনিক সংস্করণ ও তার যন্ত্রাংশ ভারতে আসতে চলেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিন সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করবে এই টুঙ্গুস্কা। এটি মূলত একটি হাইব্রিড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, যা একইসঙ্গে গান এবং মিসাইলের মাধ্যমে শত্রুর ড্রোন, হেলিকপ্টার বা নিচু দিয়ে উড়ে আসা যুদ্ধবিমানকে মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। ৪৭ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড রেজিমেন্ট বা ট্যাঙ্ক বাহিনী এখন থেকে আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
টুঙ্গুস্কার বিশেষত্ব হলো এর গতিশীলতা। এটি যেকোনো দুর্গম এলাকায় ট্যাঙ্কের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এর রাডার ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী, যা অনেক দূর থেকেই শত্রুর উপস্থিতি টের পায়। রাশিয়ার এই যুদ্ধাস্ত্রটি এর আগেও ভারতীয় বাহিনীতে ছিল, তবে এবারের চুক্তিতে এর আধুনিকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ড্রোন যুদ্ধের যুগে টুঙ্গুস্কার মতো ‘শর্ট রেঞ্জ’ ডিফেন্স সিস্টেম ভারতের জন্য গেম চেঞ্জার হতে চলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন রাশিয়ার ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার মাঝেই ভারতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এই ৪৪৫ কোটি টাকার চুক্তি কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা নয়, বরং ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থার প্রথম দফার আধুনিকীকরণ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।