বসন্তের বিদায়ঘণ্টা বাজতে না বাজতেই বাংলায় গ্রীষ্মের রুদ্ররূপ প্রকট হতে শুরু করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর স্পর্শ করতে পারে। চৈত্র মাসের শেষেই এই তীব্র দহন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা: রাঢ়বঙ্গের জেলাগুলিতে শুষ্ক গরম এবং লু-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প কম আসায় এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের দাপট বাড়ায় গরমের তীব্রতা বাড়বে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় দিনের বেলা বাইরে বেরোনো দুঃসহ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া বিদদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালের এই গ্রীষ্মকাল গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে? কলকাতায় এখনই ৪০ ডিগ্রি না হলেও, ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হবে তিলোত্তমাবাসীকে। মহানগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি সূচক (Comfort Index) অনেক বেশি থাকবে। অর্থাৎ, ঘাম এবং প্যাচপ্যাচে গরমে নাভিশ্বাস উঠবে শহরবাসীর। আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আলিপুর। বিকেলের দিকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও তাতে গরম কমার বদলে গুমোট ভাব আরও বাড়বে।
সতর্কবার্তা: চিকিৎসকরা এই তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে প্রচুর পরিমাণে জল এবং ওআরএস (ORS) পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরাসরি রোদে না বেরোনোই ভালো। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হতে পারে।