৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য! শান্তিপুরে আজও একই ভক্তি ও আচারে পূজিত হন ‘আগমেশ্বরী মা’, কে ইনি?

দীপাবলির শুভক্ষণে নদীয়ার শান্তিপুরে মহা সমারোহে সম্পন্ন হলো ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আগমেশ্বরী মা-এর পুজো। এই দেবী শান্তিপুরের অন্যতম প্রাচীন দক্ষিণা কালী হিসেবে পরিচিত। প্রায় চার শতাব্দীর প্রথা মেনে আজও দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত্রিতে একই আচার, একই ভক্তি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

শাক্ত-বৈষ্ণব ভাবধারার মিলন

শান্তিপুরকে শাক্ত ও বৈষ্ণব— দুই ভাবধারার মিলনক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তন্ত্রশাস্ত্রজ্ঞ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ-এর প্রপৌত্র রত্নগর্ভ সার্বভৌম আগমবাগীশ। তাঁর শ্বশুর, বৈষ্ণব চূড়ামণি মথুরেশ গোস্বামী ছিলেন শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্যের নাতি। এই দুই ধারার সাহচর্যে সার্বভৌম আগমবাগীশ শান্তিপুরে তাঁর আরাধ্যা দেবী মহাকালীকে প্রতিষ্ঠা করেন, যিনি পরে “আগমেশ্বরী মা” নামে পরিচিত হন।

ইতিহাসবিদদের মতে, এই দেবীই বাংলার আদি দক্ষিণা কালী, যাঁর প্রতিরূপেই পরবর্তীকালে দেশজুড়ে শ্যামাপূজার প্রচলন ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভক্তদের ঢল ও বিশ্বাস

প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার আগমেশ্বরী মাতার প্রতিমা আজও ভক্তদের মুগ্ধ করে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা আগমেশ্বরী তাঁদের অভয় ও কল্যাণের প্রতীক। প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে মাতার পূজায় শুধু শান্তিপুর নয়, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন মাতার দর্শনে। ভক্তদের দান ও সমাজের সহায়তায় এখনো নির্বিঘ্নে চলে পুজোর সমস্ত ব্যয়।

অমাবস্যা ছাড়াও প্রতি মাসের অমাবস্যা তিথিতে আগমেশ্বরী মায়ের থানায় চরণপীঠ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয়দের কাছে এক পীঠস্থানসম পবিত্র স্থান। শান্তিপুরের এই প্রাচীন আগমেশ্বরী মন্দির আজও বহন করছে ভক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক চিরন্তন প্রতীক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy