৩ বছর পর ফিরল হারানো শৈশব! এজলাসেই কান্নায় ভেঙে পড়ল ৩ বোন, হাইকোর্টের নির্দেশে মিলল বাবা-মায়ের কোল

পৃথিবীর সব লড়াই শেষে সন্তানের শেষ আশ্রয়স্থল হলো তার বাবা-মায়ের কোল। কিন্তু সেই আশ্রয়ই যদি কখনও শ্রীঘরে পরিণত হয়? বেলঘরিয়ার তিন নাবালিকা বোনের জীবনের গল্প ঠিক এমনই এক টানাপোড়েনের। দীর্ঘ তিন বছর হোমে কাটানোর পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তারা ফিরে পেল নিজের ঘর। বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহঃ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে বাবা-মায়ের হাত ধরে আদালত থেকেই সরাসরি বাড়ি ফিরল তিন বোন।

ঘটনার নেপথ্যে: ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বেলঘরিয়ার এক প্রতিবেশী থানায় অভিযোগ করেন, তিন নাবালিকাকে তাদের বাবা-মা নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। অভিযোগ ছিল, পড়াশোনা না করায় বড় মেয়েকে লাথি মেরে বের করা হয়। পুলিশ তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে সরকারি হোমে পাঠায়। কিন্তু বাবা-মায়ের দাবি ছিল অন্য। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবেশীর কোনো সন্তান না থাকায় তিনি ঈর্ষাবশত এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিন বোনকে ফিরে পেতে হাইকোর্টে ‘হেবিয়াস করপাস’ মামলা করেন অসহায় বাবা।

আদালতে আবেগঘন মুহূর্ত: বুধবার এজলাসে তিন বোনকে (বয়স যথাক্রমে ১১, ৮ ও ৬ বছর) হাজির করা হলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিচারপতিরা যখন তাদের ইচ্ছে জানতে চান, তখন তিন বোনই কেঁদে ফেলে এবং জানায় তারা তাদের বাবা-মায়ের কাছেই ফিরতে চায়। এরপরই আদালত নির্দেশ দেয়, আজ থেকেই তারা বাড়ি ফিরবে এবং আবার স্কুলে ভর্তি হবে।

কড়া নজরদারি ও হুঁশিয়ারি: সন্তানদের হাতে পেলেও আদালত বাবা-মাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আর কোনোদিন যেন সন্তানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ না আসে। অযত্ন হলে আদালত কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।” প্রতি তিন মাস অন্তর একজন পরিদর্শক নাবালিকাদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিটিকে রিপোর্ট দেবেন। কোনো অঘটন দেখলে আদালত বা কমিটির নির্দেশের অপেক্ষা না করেই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy