৩ বছর পর ওরাকলের চাকরি ছেড়ে রাস্তায় ক্যাব চালালেন বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার! কীভাবে বদলে গেল জীবন?

ভালো বেতনের একটি কর্পোরেট চাকরি এবং সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ— আজকের দিনে বহু তরুণ-তরুণীর এটাই পরম স্বপ্ন। কিন্তু কলকাতার সোহম চক্রবর্তীর গল্পটা একেবারেই আলাদা। ওরাকলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থায় তিন বছর কাজ করার পরেও মনের টানে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর আজ নিজের ব্যবসা থেকে তিনি আগের আইটি চাকরির তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি আয় করছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বেঙ্গালুরুতে ওরাকলে কেরিয়ার শুরু করলেও এই চাকরি তাঁর মনের মতো ছিল না। দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে কম্পিউটারে পদত্যাগপত্র সেভ করে রাখার পর অবশেষে ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন সোহম। বাবা যখন জানতে চান কীভাবে চলবেন, তখন সোহমের সাফ জবাব ছিল— “প্রয়োজনে রাস্তায় কলা বিক্রি করব, তবুও মনহীন কাজ করব না।” এরপর কলকাতায় ফিরে প্রায় এক বছর উবার ক্যাব চালান তিনি। সেই সময়েই শহরের অলিগলি, সংস্কৃতি ও পর্যটকদের চাহিদা খুব কাছ থেকে অনুধাবন করেন।
বাবা-মায়ের এয়ারবিএনবি-তে আসা বিদেশি পর্যটকদের কলকাতা ঘুরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর মাথায় আসে নতুন আইডিয়া। সেখান থেকেই জন্ম নেয় তাঁর নিজস্ব ট্যুরিজম স্টার্টআপ— ‘ক্যালকাটা ক্যাপসুল’। বর্তমানে কলকাতার পুরোনো ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্ট্রিট ফুড নিয়ে পর্যটকদের ঘোরানোর এই ব্যবসা দারুণ সফল। যদিও এই সাফল্য পেতে তাঁকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে এবং ব্যবসা স্থিতিশীল হতে প্রায় দু’বছর সময় লেগেছে। আজ তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক জার্নি কর্পোরেট ইঁদুরদৌড় থেকে বেরিয়ে নিজের স্বপ্নকে চেনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।