৩৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কাঠগড়ায় অভিনেতা বিজয়! চেন্নাইয়ের বাড়িতে বাড়ানো হল নিরাপত্তা, কী কারণে জনরোষের শিকার হতে পারেন অভিনেতা?

তামিলনাড়ুর করুরে টিভিকের (তামিলনাগ ভের্তরি কাঝাগম) সভায় অন্তত ৩৯ জনের মর্মান্তিক পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় কার্যত বিপাকে পড়েছেন দলের প্রধান অভিনেতা বিজয়। এই ঘটনায় তাঁকে এবং তাঁর দলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, যিনি এই ঘটনাকে ‘তামিলনাড়ুর ইতিহাসে সবথেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। জনরোষের শিকার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় বিজয়ের চেন্নাইয়ের বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে টিভিকে-র প্রত্যেক জেলা সম্পাদকদের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়।
টিভিকে-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ স্ট্যালিন সরকারের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া ৫২ বছর বয়সী অভিনেতা বিজয় তাঁর দলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে কড়া চাপের মুখে পড়েছেন। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে টিভিকে-র সমালোচনা করেছে:
নিয়ম লঙ্ঘন: রাজ্যপাল ও পুলিশের অনুমতি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে, যার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।
বিশাল বিলম্ব: দুপুর পৌনে একটা থেকে সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিজয় প্রায় ৭ ঘণ্টা দেরিতে মঞ্চে যান। দুপুর থেকেই যেখানে মহিলা ও শিশু-সহ অনুরাগীরা ভিড় করেছিলেন।
বিশৃঙ্খলা: অভিযোগ, সমর্থকরা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের গাড়ি অনুসরণ করে মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। এমনকি বিজয় যখন কথা বলছিলেন, তখনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অ্যাম্বুলেন্সে বাধা: সরকারি সূত্রের দাবি, সভাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না।
দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: দুর্ঘটনার পর আহতদের সঙ্গে দেখা না করেই প্রাইভেট বিমানে চেন্নাই ফিরে গেছেন বলেও বিজয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বিজয়ের শোক ও দলের সাফাই
যদিও এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে টিভিকে। দলের এক আইনজীবী জোর দিয়ে বলেছেন, সবরকম পুলিশি নির্দেশ মেনেই সভা করেছে দল। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিজয়ও মানসিকভাবে বিচলিত এবং তিনি তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সমাবেশের দৃশ্যাবলীতে দেখা গেছে, বিজয় ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষদের হাতে জল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর বিজয় এক পোস্টে লেখেন, “আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, আমি এমন কষ্টে আছি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কারুরে প্রাণ হারানো আমার প্রিয় ভাই-বোনদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।