বছরের শেষ দিনে বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে চলেছে ভারতের ডিজিটাল পরিষেবা। কাজের জায়গায় বৈষম্য দূর করা এবং নতুন শ্রমবিধির দাবিতে বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে গিগ শ্রমিক (ডেলিভারিম্যান) এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মী ইউনিয়নগুলি। যার ফলে নববর্ষের প্রাক্কালে অনলাইন খাবার সরবরাহ, মুদিখানার অর্ডার এবং অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিসেস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GIPSWU) কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে লেখা এক চিঠিতে সাফ জানিয়েছে, জোম্যাটো, সুইগি, জেপ্টো, ব্লিঙ্ক-ইট এবং ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থাগুলি শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। ইউনিয়নগুলির দাবি, শ্রমিকদের ‘অংশীদার’ তকমা দিয়ে আসলে তাঁদের ন্যায্য আইনি সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এই ‘আধুনিক শোষণ’ বন্ধে অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও দাবিদাওয়া:
১০-২০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধ: দ্রুত ডেলিভারির চাপে রাইডারদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে, তাই এই ব্যবস্থা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি।
ন্যূনতম পারিশ্রমিক: প্রতি কিলোমিটারে অন্তত ২০ টাকা হারে পারিশ্রমিক এবং মাসে ন্যূনতম ৪০,০০০ টাকা উপার্জনের নিশ্চয়তা।
নারী সুরক্ষা ও ছুটি: মহিলা কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং জরুরি ছুটির ব্যবস্থা।
আইডি ব্লকিং বন্ধ: তুচ্ছ কারণে কর্মীদের আইডি ব্লক করা বা শাস্তিমূলক রেটিং সিস্টেম বাতিল করতে হবে।
তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (TGPWU)-এর সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন বলেন, “শ্রমিকদের ভাঙা দেহ আর আর্তনাদের ওপর গিগ অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।” দিল্লি, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর এবং হায়দরাবাদের মতো মেট্রো শহরগুলোতে প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ রাইডার এই ধর্মঘটে সামিল হতে পারেন। দুপুরের লাঞ্চ এবং রাতের ডিনারের সময় কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাবেন তাঁরা। ফলে ৩১ ডিসেম্বর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা বা উৎসবের রাতে খাবার ডেলিভারি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, অসুবিধার সম্মুখীন না হতে চাইলে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করুন বা সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা সারুন।