“৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই হাতে পাবেন নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট!” মতুয়াদের জন্য বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত আইনি শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। রবিবার আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলন-২০২৬-এর মঞ্চ থেকে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাগরিকত্বের অভাবে যাঁদের নাম এতদিন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁরা প্রত্যেকেই সিএএ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন, মিলবে সিএএ সার্টিফিকেট

রবিবার ঠাকুরনগরের গোঁসাই পরিষদ আয়োজিত এই মহা-সম্মেলনে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নবান্ন সভাগৃহে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের (DM) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কশপ সম্পন্ন করেছেন এবং সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনও প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে।

এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ পিটিশনার বা আবেদনকারী রয়েছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করে সিএএ-র মাধ্যমে প্রত্যেককে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এ নিয়ে আপনাদের বিন্দুমাত্র চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।”

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু সঠিক নাগরিকত্বের নথির অভাবে বহু মতুয়া মানুষ সেসময় ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলতে পারেননি। সিএএ সার্টিফিকেট হাতে আসার পর সেই সমস্ত জটিলতা চিরতরে কেটে যাবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, “আগামী জানুয়ারি মাসে যখন ভোটার তালিকা রিভিশনের কাজ শুরু হবে, তখন প্রত্যেকেই নাম তোলার জন্য উদ্যোগী হবেন। যাঁরাই সিএএ সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন, তাঁরা সকলেই আবেদন করতে পারবেন। আপনাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কাগজপত্রের সমস্ত রকম আইনি সহায়তা সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে, যাতে একজন মানুষও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”

পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক বার্তা

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের তীব্র বিরোধিতার জন্য এদিন নাম না করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “সেসময়ে এক মুখ্যমন্ত্রী সিএএ-র প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন— ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’। কিন্তু তিনি মতুয়াদের সঙ্গে অন্যায় করেছিলেন বলেই ঠাকুর গণতান্ত্রিক উপায়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যের প্রায় ৭০টি মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মতুয়া সমাজের সমস্ত দাবিকে সম্মান জানিয়ে এই সরকার একযোগে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করবে।

মতুয়াদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক ও পরিকাঠামো প্রকল্প

মতুয়া সমাজের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এদিন বেশ কিছু বড় আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী:

  • ৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল: মতুয়া বোর্ড পুনর্গঠন করে চলতি অর্থবর্ষেই মতুয়াদের বিশেষ উন্নয়নের জন্য সরাসরি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার। গোঁসাই সমাজের কল্যাণে একাধিক নতুন প্রকল্পও চালু করা হবে।

  • স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন: আগামী দিনে চাঁদপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভোলবদল ঘটিয়ে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণায় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার মতুয়া ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের জোয়ার দেখা গেছে।