২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের দুর্গে হারের পর এবার কি বিধানসভার লড়াইয়ে ফিরছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী? মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই সেই জল্পনা উস্কে দিলেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। সাফ জানালেন, “আমি দলের একজন সৈনিক। হাইকম্যান্ড আমাকে যেখান থেকে লড়তে বলবে, আমি সেখান থেকেই লড়ব।” অধীরের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, প্রায় তিন দশক পর আবারও রাজ্য বিধানসভায় পা রাখতে পারেন তিনি।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এবার পশ্চিমবঙ্গে কোনও জোট ছাড়াই একলা চলার নীতি নিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেস। লড়াই হতে চলেছে চতুর্মুখী। যদিও দলেরই একাংশ, বিশেষ করে আইনজীবী-নেতা অভিষেক মনু সিংভি তৃণমূলের সঙ্গে জোটের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস নিজের শক্তিতেই ময়দানে নামছে। ইদের পরেই এআইসিসি-র পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। আর সেই তালিকায় বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য অধীর চৌধুরীর নাম থাকার প্রবল সম্ভাবনা।
স্মর্তব্য যে, ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন অধীর। তারপর দীর্ঘ ২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ হিসেবে দিল্লির রাজনীতি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয়ের পর এখন ঘরের মাঠেই ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারেন তিনি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলায় ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—দুই দফায় ভোট হবে। চেনা পিচে অধীর চৌধুরী কি পারবেন ফের নিজের ম্যাজিক দেখাতে? উত্তর মিলবে ৪ মে গণনার দিন।