৩০ ঘণ্টা পর থামল ধর্না! বিএলও-দের সব দাবি মেনে নিলেন সিইও, কী ছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের আশ্বাস?

কাজের অতিরিক্ত চাপ, অসুস্থতা এবং বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) কর্মীদের আত্মহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের প্রতিবাদে অবশেষে ৩০ ঘণ্টা পর ধর্না প্রত্যাহার করল তৃণমূলপন্থী বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চ। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল আন্দোলনকারী বিএলও-দের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সিইও একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল থেকে সিইও অফিসের বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন বিএলও-রা। এসআইআর (Special Summary Revision) সহ অতিরিক্ত কাজের চাপের কথা উল্লেখ করে তাঁরা স্মারকলিপিও জমা দেন। বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যতক্ষণ না তাঁদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন, ততক্ষণ ধর্না চলবে।

অবশেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল আলোচনায় বসতে বাধ্য হন। বৈঠক শেষে বিএলও সোনালী বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রবর্তী দাবি করেন, “দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা ধরনার পর সিইও আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। আমরা ফর্ম পূরণ ও ডিজিটাইজেশনের জন্য আরও সময় দেওয়ার আবেদন জানাই এবং একইসঙ্গে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের দাবি করি। উনি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, দিল্লিকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

সবচেয়ে বড় স্বস্তি হিসেবে তিনি জানান, “সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার আতঙ্কে অনেক বিএলও ভুগছেন। আমরা দাবি জানাই, কোনও বিএলও-কে যেন শোকজ বা সাসপেন্ড না করা হয়। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কোনও বিএলও-কে শোকজ করা হবে না, সাসপেন্ডও করা হবে না।”

এছাড়াও, কাজের চাপে আত্মঘাতী হওয়া বিএলও-দের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হলে সিইও সেই বিষয়েও আশ্বাস দেন। যদিও সিইও অফিস থেকে ধর্না তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চ জানিয়েছে, তাদের মূল আন্দোলন জারি থাকবে।