“৩০০ জনকে ধরলে তো কী হয়েছে, ৩০০০ লোক ভারতে অবাধে ঘুরছে!” মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ পাক গ্যাংস্টারের!

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৫৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এর মধ্যে কর্ণাটকের তিনজন সহ দেশের একাধিক রাজ্যের অপরাধচক্রের যোগসূত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এই বিশাল ধরপাকড়ের মাঝেই সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি করে বসলো পাকিস্তান-ভিত্তিক কুখ্যাত গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে সে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে মোদী সরকারকে। ভাট্টির দাবি, ভারতীয় পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তারা আদতে তার দলের কোনো সদস্যই নয়, বরং তারা ভিন্ন একটি মহলের লোক। উল্টে সে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে হুমকি দিয়ে বলেছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী মাত্র কয়েকশো জনকে ধরলেও তার দলের ৩,০০০ সক্রিয় সদস্য এখনও দেশের মাটিতে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত ছয় বছর ধরে ভারতে তাদের নেটওয়ার্ক কাজ করছে দাবি করে সে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও তীব্র ব্যঙ্গ করেছে। একইসঙ্গে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আসল পরিচয় এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে এই পাক গ্যাংস্টার।

অন্যদিকে, ভাট্টির এই হুমকির মধ্যেই ভারতের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি গুপ্তচর চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক পাকিস্তানি চরকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পালানোর সময় এসটিএফের জালে ধরা পড়ে রানা রউফ নামের ওই পাকিস্তানি নাগরিক। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নেপালে লুকিয়ে থাকার পর সে ভারতে এসে ঘাঁটি গেড়েছিল। ভারতীয় সেনা ছাউনি, কৌশলগত স্থাপনা এবং রেল সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সুকৌশলে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার (ISI) কাছে পাচার করত রানা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাকিস্তানি পাসপোর্টের সূত্র ধরে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে করাচি যাতায়াতের জন্য ওই পাসপোর্টটি আগেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। একদিকে দেশজুড়ে গ্যাংস্টারের হুঙ্কার এবং অন্যদিকে আন্তঃসীমান্ত গুপ্তচরবৃত্তির একের পর এক পর্দাফাঁস—সবমিলিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগের আবহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।