পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার পৌঁছাল দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের হেঁশেলে। জ্বালানি সংকটের জেরে মহাপ্রসাদ বিতরণে বড়সড় কাটছাঁট করতে বাধ্য হলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত অন্নভোগের আশায় ভিড় করতেন, সেখানে রান্নার গ্যাসের অভাবে এখন প্রসাদ মিলছে নামমাত্র।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, আগে যেখানে প্রায় ৩০০০ মানুষের জন্য ভোগ রান্না হতো, এলপিজি সরবরাহে টান পড়ায় তা কমিয়ে এখন মাত্র ৭৫০ করা হয়েছে। মন্দিরে থাকা মজুত গ্যাস প্রায় শেষের পথে, আর নতুন করে রিফিলিং না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সেবাইতরা। তবে জগন্নাথদেবের নিত্যভোগ যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
এই সংকটের ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে দীঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর ও তাজপুরের পর্যটন মানচিত্রেও। এলপিজি এবং পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জোগানে ঘাটতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। হোটেল মালিকদের দাবি, গ্যাস এজেন্টরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে না। এর ফলে বড় বড় হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকান—সবই বন্ধ হওয়ার মুখে। পর্যটন ব্যবসায় এই ধস কতদিন চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় গোটা সৈকত নগরী।