‘২ দিনেই খুলে যাবে হরমুজ প্রণালী!’ ইরান দিল বড় প্রস্তাব, এবার আসল সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে?

বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এলো বড় খবর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বড় ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক আলোচনার সূত্র ধরে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের দেওয়া কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নেয়, তবে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন চরম কৌতূহল—কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?
কাতারের মধ্যস্থতা ও দুই দিনের আল্টিমেটাম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা জারি রয়েছে। তেহরানে ইরানি ও কাতারি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটানা ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কাতারে এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
আরাঘচি বলেন, “প্রাথমিকভাবে কাতারকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে দোহার সঙ্গে সফল পর্যালোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া সম্ভব।”
মার্কিন চাবিকাঠি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে
এই সমঝোতার নেপথ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে সূত্র মারফৎ জানা গেছে। সেই চিঠির পরই শুরু হয় তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন। তবে চূড়ান্ত প্রস্তাব তেহরানের টেবিলে থাকলেও এটি গ্রহণ করা হবে কি না, তার সম্পূর্ণ ক্ষমতা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই কেন্দ্রভূত।
তেহরানের কড়া শর্তসমূহ
ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি কঠিন শর্ত সামনে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম:
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইসলামাবাদ সমঝোতার পর ইরানের ওপর যে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
মার্কিন সেনা কমানো: মধ্যপ্রাচ্য বা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও সংখ্যা হ্রাস করা।
জব্দ তহবিল ফেরত: তেল বিক্রিতে ছাড় পুনর্বহাল করা এবং কাতারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সমুদয় অর্থ মুক্ত করা।
একক নৌপথের স্বীকৃতি: ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া বিশেষ নৌপথকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্যান্য বিকল্প পথ বন্ধ করা।
যুদ্ধবিরতির দাবি: সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে থামানো।
রেজাইয়ের কড়া হুঁশিয়ারি
এর আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই সতর্ক করে জানান যে, তেহরানের প্রতিটি দাবি মেটানো না হওয়া পর্যন্ত জলপথটি বন্ধই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যদি ইরানের ওপর কোনো রকম আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করা হয়, তবে ইরান তাদের নতুন ও মারাত্মক সব অস্ত্র ব্যবহার করে আগ্রাসনকারী দেশকে উপযুক্ত জবাব দেবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোর্টে এখন বল পাঠিয়েছে ইরান। বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তে সায় দেয় নাকি সংঘাতের পথ বেছে নেয়, সেদিকেই বিশ্ববাসীর তীক্ষ্ণ নজর।