ভোটের ময়দানে এবার এন্ট্রি নিল জ্যোতিষ শাস্ত্র! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তমলুকের তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে প্রচারে এসে এক অদ্ভুত মন্তব্য করে বসলেন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০২৬ সাল নাকি ‘রাহুর বছর’। আর এই রাহুর দশা থেকে বাঁচতে বেশি করে লাল এবং অরেঞ্জ (কমলা) রঙের পোশাক পরার পরামর্শ দিলেন তিনি।
রচনার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ, লাল বামপন্থীদের রঙ আর কমলা বা গেরুয়া বিজেপির সিগনেচার কালার। তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে এসে কেন তিনি বিরোধী শিবিরের রঙের গুণগান গাইলেন, তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখনই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন প্রার্থী দেবাংশু নিজে। অত্যন্ত চতুরতার সাথে দেবাংশু বলেন, “লাল আর অরেঞ্জ বেশি ব্যবহার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটা এই কারণেই যাতে সবুজ রঙটা আরও গাঢ় হয়ে ফুটে ওঠে।”
দেবাংশুর এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট যে, তিনি রচনার জ্যোতিষতত্ত্বকে উড়িয়ে না দিয়ে বরং সেটিকে তৃণমূলের দলীয় পতাকার রঙের মহিমায় মুড়ে দিতে চেয়েছেন। রচনার মতে, এই বিশেষ রঙগুলো পরলে নাকি রাহুর কুপ্রভাব এড়ানো সম্ভব এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে। তবে বিরোধীরা এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের দাবি, হারের ভয়ে এখন তৃণমূল নেত্রীরা জ্যোতিষীর শরণাপন্ন হচ্ছেন। প্রচারের ময়দানে রচনার এই ‘কালার থেরাপি’ শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা রঙ ছড়ায়, এখন সেটাই দেখার।