২৪ ঘণ্টা পেরোতেই হাড়হিম করা তথ্য! গত এক মাসে দেশে কত নারী ও শিশু নৃশংসতার শিকার হলেন?

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং দুটি বিশিষ্ট অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের নিখুঁত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এই আগস্ট মাসের অপরাধ প্রতিবেদনটি সংকলন করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মোট ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জন কন্যাশিশু এবং ১৩৪ জন পূর্ণবয়স্ক নারী রয়েছেন।

পরিসংখ্যানের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিকটি হলো সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। গত মাসে মোট ৫৫ জনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ জন নারী এবং ১০ জন কন্যাশিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশবিকতার মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, আগস্ট মাসে মোট ৫৪ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ৩৬ জন কন্যাশিশু এবং ১৮ জন নারী সরাসরি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এমনকি আটজন কন্যাশিশুসহ মোট ১৩ জন নারী ও শিশু দলবদ্ধ বা গ্যাং রেপের নৃশংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এক কন্যাশিশুসহ দুজনকে। এ ছাড়া, ১১ জন কন্যাশিশুসহ মোট ১৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত মাসে ২৪ জন কন্যাশিশুসহ মোট ৩০ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন কন্যাশিশুসহ ১৪ জন যৌন নিপীড়নের এবং আটজন কন্যাশিশুসহ ৯ জন ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণের শিকার হন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ৪ জন কন্যাশিশুসহ ৭ জনের ওপর সাইবার সহিংসতা চালানো হয়েছে। শুধু শারীরিক বা যৌন নির্যাতন নয়, এর বাইরেও নারী ও কন্যাশিশুরা হত্যাচেষ্টা, গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় নির্মম নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, বেআইনি বাল্যবিবাহ এবং অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছেন। সামাজিক ও নিরাপত্তা মহলের মতে, অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।