‘কখনও নিখুঁত হতে পারে না ১০০ কোটির ডেটাবেস!’ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনকে তুলোধোনা প্রাক্তন সিইসি এস ওয়াই কুরেশির

ভারতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো নির্বাচন কমিশনের (ECI) ওপর দেশের কোটি কোটি নাগরিক এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের অকুণ্ঠ আস্থা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নতুন বিতর্কিত পদক্ষেপের ফলে কমিশনের দীর্ঘদিনের অর্জিত আস্থায় টান পড়েছে বলে মনে করছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এস ওয়াই কুরেশি। তাঁর মতে, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা ছাড়া যেমন গণতন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না, ঠিক তেমনই যোগ্য একজন নাগরিকও যদি তালিকা থেকে বাদ পড়েন, তবে সেই তালিকার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়।

দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভারত সার্বজনীন ভোটার নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রায় ৯৯ শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছিল। গণপরিষদ এবং সংবিধান প্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে ভোটাধিকার দেওয়া। তবে একই সাথে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া, ডুপ্লিকেট বা দুটি জায়গায় থাকা নাম বাতিল করা এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের তথ্য হালনাগাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই মৌলিক আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পূর্ববর্তী সমস্ত নির্বাচন কমিশনাররা নিয়মিত ও সাধারণ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করে এসেছেন।

এস ওয়াই কুরেশি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রায় ১০০ কোটি মানুষের মতো এক বিশাল ডেটাবেস কখনোই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত বা নিখুঁত হতে পারে না। তবে বিগত কয়েক দশক ধরে যে সংক্ষিপ্ত সংশোধন (Summary Revision), বিশেষ করে কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থার সাহায্যে ক্রমাগত আপডেট এবং বিএলও (BLO)-দের মাধ্যমে যাচাইকরণ সফলভাবে কার্যকর ছিল, তাকে হঠাৎ সরিয়ে নতুন বা জটিল প্রক্রিয়ার দিকে হাঁটছে কেন কমিশন?

গতকাল দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিশাল বিক্ষোভ এবং দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের আবহেই প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এই বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, কমিশনের আসল শক্তি কোনো কঠোর নিয়মে নয়, বরং স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করেই টিকে থাকে।