২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নিজের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ে এখন শাসকদলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। রবিবার রেজিনগরের এক সভা থেকে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, মুর্শিদাবাদে তাঁর দলের সঙ্গে আসন রফা করতে চাইছে তৃণমূল। ২২টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসন তাঁর দলকে ছেড়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই প্রস্তাব সপাটে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
তৃণমূলকে খোলা চ্যালেঞ্জ: ভরতপুরের বিধায়ক থাকাকালীন দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল হুমায়ুনের। এদিন তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল লজ্জা পায় না! আগে আমার বিরুদ্ধে ব্লক সভাপতিদের লেলিয়ে দিয়েছিল, আর এখন বলছে ২২টার মধ্যে ১৪টা সিট নিয়ে নাও। আমাদের সঙ্গে থাকো। আমি স্পষ্ট বলছি, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্য করব। ২২টি আসনেই জয় ছিনিয়ে নেব।” হুমায়ুনের হিসাব অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে মোট ৪৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩৫টিতে তাঁর দলই জিতবে।
ফিরহাদ হাকিমকে বেলাগাম আক্রমণ: এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন। সম্প্রতি খিদিরপুরে তাঁকে হেনস্তা করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ববি হাকিম যেদিন মুর্শিদাবাদে আসবে, ওর কলার ধরে নামাব। ও খিদিরপুরের দাদা হতে পারে, কিন্তু মুর্শিদাবাদের দাদা হুমায়ুন কবীর। ববি হাকিমকে আস্ত ফেরত যেতে দেব না। প্রয়োজনে ফের জেল খাটব।” হুমায়ুন মনে করিয়ে দেন, সিপিএম জমানায় তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছিল এবং তিনি ৮১ দিন জেল খেটেছেন, তাই মামলার ভয় তিনি পান না।
ভোট ঘোষণার ভবিষ্যদ্বাণী: এদিন আগামী নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়েও বড় ইঙ্গিত দেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি সম্ভবত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। আর সেই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার লোক পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। সিপিএম, মিম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের দরজা খোলা রেখে তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দেন— রেজিনগর থেকে যেন অন্তত ৭৮ হাজার ভোটের লিড নিশ্চিত করা হয়। হুমায়ুনের এই রণমূর্তি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মুর্শিদাবাদে এবার তৃণমূলের জন্য লড়াই অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে।