দীর্ঘ ২০ মাসের ধোঁয়াশা ও অন্তহীন জল্পনার অবসান ঘটল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন।
দেড় বছর কোথায় ছিলেন তিনি? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। কেউ দাবি করেছিলেন তিনি বিদেশে পালিয়েছেন, আবার কেউ বলেছিলেন তিনি দেশের ভেতরেই কোথাও আশ্রয়ে আছেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
দেশেই আত্মগোপন: গত প্রায় ২০ মাস (দেড় বছরের বেশি সময়) তিনি দেশেই ছিলেন। গ্রেফতারের আগে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসায় তাঁর এক আত্মীয়ের আশ্রয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
একাধিকবার স্থান পরিবর্তন: গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ধরা পড়ার ভয়ে তিনি মাঝেমধ্যেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ধানমন্ডির ওই বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।
কেন এই গ্রেফতার? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিশেষ করে রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় (আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামক এক যুবকের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা) তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। আজ দুপুরেই তাঁকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে তোলা হয়।
আদালতের রায়: ডিবি পুলিশ তাঁর ২ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাবেক এই স্পিকারের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ২০২৪-এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক বড় অধ্যায়ের যবনিকা পড়ল।





