মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এবার নতুন উত্তাপ। ২০২৯ সাল থেকেই লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পথ প্রশস্ত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে মোদি সরকার। আর এই লক্ষ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাদের কাছে পূর্ণ সমর্থন চেয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে স্রেফ ‘ভোটের রাজনীতি’ এবং ‘ডিগবাজি’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ল না কংগ্রেস।
মোদির আর্জি: “ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হোন”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইনকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করার সময় এসেছে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের যে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, সেখানে এই সংশোধনী বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নতুন জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের সেন্সাসকেই ভিত্তি করে ২০২৯-এর ভোট থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করতে চায় কেন্দ্র।
কংগ্রেসের পাল্টা তোপ: “এটা স্রেফ নির্বাচনী ভেলকি”
প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মুখপাত্র জয়রাম রমেশের দাবি:
পুরনো দাবি বনাম বর্তমান অবস্থান: ২০২৩ সালে যখন বিলটি পাস হয়েছিল, তখন কংগ্রেস ২০২৪ থেকেই এটি চালুর দাবি জানিয়েছিল। তখন বিজেপি কেন রাজি হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মোদির ‘ক্ষমা’ চাওয়া উচিত বলে মনে করে কংগ্রেস।
ভোটের অঙ্ক: বাংলা এবং তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের মুখেই কেন এই তাড়াহুড়ো? কংগ্রেসের অভিযোগ, পরাজয়ের ভয়েই মোদি সরকার এখন জনগণনা ও এলাকা পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) আগের শর্ত থেকে ডিগবাজি খাচ্ছে।
বিপর্যস্ত পরিকল্পনা: জয়রাম রমেশের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ “টোটাল ল্যাক অফ প্ল্যানিং” বা পরিকল্পনাহীনতার প্রমাণ।
সংসদে সংখ্যার লড়াই
আগামী সপ্তাহে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। বিজেপি-র একার পক্ষে যা অসম্ভব। ফলে বিরোধীদের সমর্থন আদায় করা মোদি সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ১৫ এপ্রিল বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে একটি স্ট্র্যাটেজি বৈঠক ডেকেছে। একদিকে সরকারের ‘নারী শক্তি’র স্লোগান, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ— সব মিলিয়ে এপ্রিলের এই সংসদীয় অধিবেশন যে উত্তাল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





