২০২৬-এ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কি শুভেন্দু? শমীক ভট্টাচার্যের এক মন্তব্যে বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড়!

যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডের স্মৃতি এখনও টাটকা। অব্যবস্থাপনার জেরে বিশ্বজুড়ে মুখ পুড়েছে তিলোত্তমার। সেই ক্ষত মেলাতে না মেলাতেই সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে যাতে ফুটবলের মতো বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছি। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নোট করা হয়েছে। আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে। এর আগেও আমরা বড় ম্যাচ সফলভাবে সামলেছি, এবারও নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র হবে।”
এদিকে ইডেনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মাঝেই রাজনীতির ময়দানে ছক্কা হাঁকালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “আগামী জুন মাসে যখন এই ধরনের বড় বৈঠক হবে, সেখানে শুভেন্দু অধিকারীকে উপস্থিত থাকতে দেখবেন।”
শমীকের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, জুন মাসে তো রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের সময়। তবে কি শমীক ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে? আর শুভেন্দুই কি হতে চলেছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী?
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কৌশলগত জবাব দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। বিতর্ক এড়াতে তিনি বলেন, “বিজেপি কোনো মুখ-মুখোশের রাজনীতি করে না। তবে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, সেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চিতভাবেই থাকবেন।” শুভেন্দুর লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, “উনি পুলিশের সঙ্গে লড়াই করেন, তাই ওদের ভালো চেনেন। বৈঠক যে উনিই করবেন, তা কালের নিয়মে লেখা হয়ে গিয়েছে।” পাশে বসে থাকা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য হাসিমুখে বিষয়টিকে ‘সিম্বলিক’ বা প্রতীকী বলে উল্লেখ করেন।
ভোটের দামামা বাজার আগেই বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস এবং ‘মুখ’ নিয়ে জল্পনা বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। ২০২৬-এর কুর্সিতে শেষ পর্যন্ত কে বসেন, এখন সেটাই দেখার।