২০২৬-এর নবান্ন দখলের লড়াইয়ে কৌশলী চাল বামেদের। সোমবার বিকেলে বামফ্রন্টের ১৯২ জন প্রার্থীর তালিকায় সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এল বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম। দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যাদবপুরে এবার লড়াই করবেন রাজ্যসভার এই সাংসদ তথা প্রাক্তন মেয়র। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় বামেদের ভোট কমায় এবার অভিজ্ঞতার ওপরেই বাজি ধরল আলিমুদ্দিন।
কেন বিকাশরঞ্জন? যাদবপুর এককালে ছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দুর্গ। কিন্তু ২০২১ সালে তা হাতছাড়া হয়। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তরুণ প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য লড়াই করলেও তৃণমূলের সায়নী ঘোষের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়। এরপরই দলীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয় যে, যাদবপুরের মতো বুদ্ধিজীবী প্রধান এলাকায় বিকাশরঞ্জনের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও আইনি মেধার অধিকারী প্রার্থী বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারেন। আরজি কর থেকে শুরু করে একাধিক জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারকে কোণঠাসা করা বিকাশরঞ্জনকেই তাই তুরুপের তাস করল বামেরা।
কালীগঞ্জ ও তারুণ্যের ব্রিগেড: তালিকায় শুধু অভিজ্ঞতা নয়, আবেগের ছোঁয়াও রেখেছে বামেরা। নদিয়ার কালীগঞ্জ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে নিহত ছোট্ট তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে। এর পাশাপাশি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর, কলতান দাশগুপ্ত এবং ধ্রুবজ্যোতি সাহার মতো যুব নেতৃত্বকে এবারও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।
বিকাশরঞ্জনের প্রতিক্রিয়া: প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর বিকাশরঞ্জন জানান, “যাদবপুর আমার এলাকা, আমি এখানকার ভোটার। মানুষ দুর্নীতিমুক্ত শাসন চায়। সেই লড়াইয়ে আমি দলের সৈনিক হিসেবে কাজ করব।” এখন দেখার, বিকাশরঞ্জনের মতো হেভিওয়েট মুখ কি পারবে যাদবপুরে আবারও লাল ঝান্ডা ওড়াতে?