পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বেজে গিয়েছে। গত পাঁচ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পেরেছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক এই আবহে News18-এর সাম্প্রতিক ‘মেগা ওপিনিয়ন পোল’ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ান এবং আসন্ন ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের জনমুখী প্রকল্পগুলি, বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র মতো কর্মসূচিগুলি গ্রামীণ বাংলায় শাসক দলের ভিতকে এখনও বেশ মজবুত রেখেছে। তবে শহরাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের ইঙ্গিতও মিলেছে। ৫ বছরের কাজের বিচারে সরকারের ওপর মানুষের সন্তুষ্টির হার মিশ্র। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার ভালো কাজ করলেও শিল্পায়ন ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে আরও অনেক কিছু করার বাকি ছিল।
ক্ষমতায় ফেরার বিষয়ে ওপিনিয়ন পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূল এখনও রাজ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে টিকে থাকলেও বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট শতাংশের রদবদল ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের গড় এখনও অটুট। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, যদি আজ নির্বাচন হয়, তবে তৃণমূল একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা কমতে পারে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য মূল কথা— লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে, আর শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নির্ভর করছে মূলত দোদুল্যমান ভোটারদের ওপর।