বৃহস্পতিবার কলকাতা সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন নাটকীয় মুহূর্তের। আইপ্যাক (I-PAC) প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে ইডি-র তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকরা যখন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করেছিলেন, তখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ পুলিশকর্তারা গিয়ে সেইসব নথিপত্র জোর করে কেড়ে নেন।
এই ঘটনার জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। ইডি যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তেমনই পাল্টা একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।
কেন হাইকোর্টে তৃণমূল? দেখে নিন ১০টি বড় যুক্তি:
তৃণমূল কংগ্রেস ইডি-র এই পদক্ষেপকে কেবল একটি তদন্ত নয়, বরং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। হাইকোর্টে দাখিল করা পিটিশনে তারা যে দাবিগুলি করেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন: সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। ইডি সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ।
ক্ষমতার অপব্যবহার: তৃণমূলের দাবি, PMLA আইনের ১৭ নম্বর ধারার দোহাই দিয়ে ইডি আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এই তল্লাশির সঙ্গে তদন্তের কোনও যোগ নেই।
২০২৬ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বাধা: তৃণমূলের আশঙ্কা, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল ভেস্তে দিতেই সুপরিকল্পিতভাবে আইপ্যাককে টার্গেট করা হয়েছে।
ভোটের ডেটা লুঠের অভিযোগ: শাসকদলের দাবি, আইপ্যাকের কাছে দলের প্রচার ও রণকৌশল সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। সেই ‘ডেটা’ হাতানোই ছিল এই তল্লাশির আসল উদ্দেশ্য।
নোটিশহীন হানা: কোনও রকম আগাম নোটিশ বা তদন্তে সহযোগিতার আর্জি না জানিয়েই কেন হানা দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল।
গণতন্ত্রে আঘাত: একটি রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা সংস্থার ওপর এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মনে করছে জোড়াফুল শিবির।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি আসলে দিল্লির শাসকদলের হয়ে কাজ করছে এবং নির্বাচনের আগে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে চাইছে।
পাল্টা চাপের মুখে বিজেপি?
ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি হলে ১০০ কোটি টাকা উদ্ধার হবে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তায় বিজেপি সমর্থকদেরও এবার তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।