২০২৬-এর ভোটের আগে বড় চমক, ১৬ লক্ষ পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা দেবে রাজ্য

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার একাধিক প্রকল্পে চমক দিতে চলেছে। তেমনই একটি খবর সামনে এসেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসেম্বরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অধীনে আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি তৈরির টাকা দিতে পারেন। ইতোমধ্যেই নবান্নে এই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে রাজ্য সরকার। বহু চিঠি ও আবেদন করেও কেন্দ্র থেকে টাকা না আসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য কোষাগার থেকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ডিসেম্বর থেকে দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু
এর আগে, লোকসভা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে রাজ্য সরকার ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া শুরু করে। এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দুটি কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ফের ১৬ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হবে। অর্থাৎ, ভোটের আগেই বাংলায় মোট ২৮ লক্ষ পরিবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরির টাকা পাচ্ছেন।

কারা পাবেন এই সুবিধা?
রাজ্যের সব পরিবার এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন। যারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:

পাকা বাড়ি থাকলে তারা এই সুবিধা পাবেন না।

যাদের সরকারি চাকরি, ব্যবসা বা আয়ের নির্দিষ্ট সীমা (মাসিক ১৫ হাজার টাকার বেশি) আছে, তারা এই সুবিধার যোগ্য নন।

যারা আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স প্রদান করেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে বলেছিলেন, “কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিলেও ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ির টাকা দিয়ে দিয়েছি। আরও ১৬ লক্ষকে দেব। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে সবটা করে দিতে পারব।” এখন শোনা যাচ্ছে, ডিসেম্বরেই এই দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু হতে চলেছে।