ভারতে সন্ত্রাসবাদ (Terrorism) কার্যত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সম্প্রতি সর্দার প্যাটেল স্মারক বক্তৃতায় এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীর বাদ দিলে ২০১৩ সালের পর দেশের অন্য কোথাও বড়সড় জঙ্গি হামলা হয়নি, যা দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ারই ফল।
ডোভাল বলেন, “তথ্যই কথা বলে। দেশে সন্ত্রাসকে কার্যকরভাবে রুখে দেওয়া হয়েছে।”
জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভিন্ন মত: জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir) এবং তার সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে অবশ্য ডোভালের মত ভিন্ন। তিনি বলেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান-সমর্থিত (Pakistan) গোপন সংঘাত চলেছে এবং তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ক্রমাগত হামলার চেষ্টা করছে। তবে তা রুখে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, দেশের বাকি অংশ শান্ত ও সুরক্ষিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শত্রুপক্ষ সক্রিয় থেকেও হামলা ঘটাতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ় হয়েছে।”
বাম উগ্রবাদেও সাফল্য: বাম উগ্রবাদ (Left-wing Extremism) নিয়ন্ত্রণেও আশাবাদী দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি জানান,
২০১৪ সালে যে এলাকাগুলিতে বাম উগ্রবাদী তৎপরতা ছিল, এখন তা ১১ শতাংশেরও কম।
বহু জেলা এখন ‘সুরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত।
ডোভালের এই আশাবাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যও মিলে যায়। শাহ কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, ‘২০০৪-১৪ সালের তুলনায় ২০১৪-২৪ সালে নকশাল ঘটনা ৫৩ শতাংশ কমেছে’। তিনি আরও ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশ চরম বামপন্থী উগ্রপন্থা থেকে মুক্ত হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।
এনএসএ-র মতে, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা নয়, নাগরিকের আত্মবিশ্বাসও বাড়ানো জরুরি। তিনি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার উদাহরণ টেনে বলেন, ভারত এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিরোধ এবং প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা দু’দিকেই শক্ত ভিত গড়েছে।